রাতের বিশেষ আমল

 

রাতের বিশেষ আমল

১। হয়রত জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, তার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। --- মালেক, ইবনে হিব্বান

২। হয়রত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিরাতে সূরা ওয়াক্বিয়াহ পাঠ করবে, তার উপর দারিদ্র আপতিত হবে না।    ---রযীন

৩। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা দু’খান পাঠ করবে সে এমন অবস্থায় প্রভাতে উপনীত হবে যে, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য ইস্তিগফার করতে থাকবে।  ----তিরমিযী, দারা কুত্নী

৪। হযরত ফারওয়া ইবনে নাওফাল (রা.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (সা.) নাওফাল (রা.)-কে বললেন, তুমি ‘কুল্ ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন’ পড়বে, এরপর তা শেষ করে নিদ্রায় যাবে। কেননা তা তোমাকে শিরক থেকে মুক্ত করবে।   ---আবু দাউদ 

সুরা কাফিরুন বাংলা উচ্চারণঃ 
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। কুল ইয়া আইউহাল কাফিরূন। লা আ’বুদু মাতাবুদুন। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ। ওয়া লা আনা আবিদুনা মা আবাদতুম। ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মাআবুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালীয়া দ্বীন। 

৫। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুলাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে কোরআনের দশটি আয়াত পাঠ করে নিবে তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত লেখা হবে না।  -----তাবারানী

কোরআনে কারীমের নিম্নলিখিত দশটি আয়াত রাতের যে কোন সময় তেলাওয়াত করবে। -হিসনে হাসীন

ক) সূরা বাকারারর প্রথম চার আয়াত।

খ) আয়াতুল কুরসী।

গ) আয়াতুল কুরসীর পরের দুই আয়াত।

ঘ) সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত।


সূরা বাকারারর প্রথম চার আয়াত:


বাংলা উচ্চারন

আলিফ-লাম-মীম। যালিকাল কিতাবু লারাইবা ফিহি হুদাল্লিল মুত্তাক্বিন। আল্লাযীনা ইউমিনুনা বিল গাইবি ওয়া ইউকিমুনাস্ সালাতা ওয়া মিম্মা রাযাকনাহুম ইউনফিকুন। ওয়াল্লাযীনা ইউমিনুনা বিমা উনযিলা ইলাইকা ওয়ামা উনযিলা মিন কাবলিকা ওয়াবিল আখিরাতি হুম ইউকিনুন। উলা-য়িকা ‘আলা- হুদাম্ র্মি রব্বিহিম্ অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

আয়াতুল কুরসী:

 اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ 

বাংলা উচ্চারন

আল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুয়াল্ হাইয়্যুল কাইয়্যূ-ম্; লা-তা’খুযুহূসিনাতুওঁ অলা-নাওম্; লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্ব্; মান্ যাল্লাযী ইয়াশ্ফা‘উ ‘ইন্দাহূ য় ইল্লা-বিইয্নিহ্; ইয়া’লামু মা-বাইনা আইদী হিম্ অমা-খাল্ফাহুম্ অলা-ইয়ুহীত্ব ূনা বিশাইয়িম্ মিন্ ‘ইলমিহী য় ইল্লা-বিমা-শা - আ, অসি‘আ র্কুসি ইয়্যু হুস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া, অলা-ইয়ায়ূদুহূ হিফ্জুহুমা-, অহুআল্ ‘আলিয়্যুল্ ‘আজীম্। 

আয়াতুল কুরসীর পরের দুই আয়াত:

لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ 

اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

বাংলা উচ্চারন

লা য় ইকরা-হা ফিদ্দীনি ক্বাত্ তাবাইয়্যানার রুশ্দু মিনাল্ গাইয়্যি, ফামাইঁ ইয়ার্ক্ফু বিত্ত্বোয়াগূতি অইয়ুমিম্ বিল্লা-হি ফাক্বাদিস্ তাম্সাকা বিল্ ‘র্উওয়াতিল্ উছ্ক্বা-লান্ফিছোয়া-মা লাহা-; অল্লা-হু সামী‘উন্ ‘আলীম্। 

আল্লা-হু অলিয়্যুল্লাযীনা আ-মানূ ইয়ুখ্রিজ্ব ুহুম্ মিনাজ্ জুলুমা-তি ইলান নূর; অল্লাযীনা কাফারূ য় আওলিয়া - উহুমুত্ব ত্বোয়া-গূতু ইয়ুখ্রিজ্ব ূনাহুম্ মিনান্ নূূরি ইলাজ্ জুলুমা-ত্; উলা - য়িকা আছ্হা-বুন না-রি, হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্। 


সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত:

لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير 

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ 

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ 

বাংলা উচ্চারন

লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ আরদ্ব্; অইন্ তুব্দূ মা-ফীয় আন্ফুসিকুম্ আও তুখ্ফূহু ইয়ুহা-সিব্কুম্ বিহিল্লা-হ্; ফাইয়াগ্ফিরু লিমাইঁ ইয়াশা - উ অইয়ু‘আয্যিবু মাইঁ ইয়াশা - উ অল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী। 

আ-মার্না রাসূলু বিমায় উন্যিলা ইলাইহি র্মি রাব্বিহী অল্ মুমিনূন্; কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি অমালা - য়িকাতিহী অকুতুবিহী অরুসুলিহী, লা-নুর্ফারিক্ব ু বাইনা আহাদিম র্মি রুসুলিহী অক্বা-লূ সামি’না- অআত্বোয়া’না- গুফ্রা-নাকা রব্বানা- অইলাইকাল্ মার্ছী। 

লা-ইয়ুকাল্লিফুল্লা-হু নাফসান্ ইল্লা-উস্‘আহা-; লাহা-মা- কাসাবাত অ‘আলাইহা- মাক্তাসাবাত; রব্বানা- লা-তুআ-খিয্না য় ইন্নাসী য় না-আও আখ্ত্বোয়ানা-, রব্বানা- অলা-তাহ্মিল্ ‘আলাইনায় ইছরান কামা-হামাল্তাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিনা-, রব্বানা- অলা-তুহাম্মিল্না- মা-লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানা-বিহ্;অ’ফু ‘আন্না-অর্গ্ফি লানা- র্অহাম্না- আন্তা মাওলা-না- ফান্ছুরনা- ‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্। 

উপরোক্ত (সূরা বাকারার) আয়াতের ফযীলত:

হযরত সাহুল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন প্রত্যেক জিনিসের একটি চূড়া রয়েছে। আর কুরআনের চূড়া হল সূরা বাকারা, যে ব্যক্তি রাতের বেলা এ সূরাটি তার ঘরে পাঠ করবে, তিন রাত পর্যন্ত তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যক্তি দিনের বেলায় তা পাঠ করবে, তিনদিন পর্যন্ত তার ঘরে শয়তান প্রবেশ করবে না। --ইবনে মাজাহ

হযরত নুমান ইবনে বাশীর (রা.) সুত্রে নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির দু’হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। ঐ কিতাবের দু’টি আয়াত নাযিল করে তিনি সূরা বাকারা সমাপ্ত করেছেন। যে বাড়িতে তিন দিন এ আয়াত দু’টি পাঠ করা হবে, শয়তান ঐ বাড়ীর কাছে ও আসবে না। ---তিরমিযী

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ সূরা বাকারাকে এমন দু’টি আয়াত দ্বারা সমাপ্ত করেছেন, যে গুলো তিনি আরশের নীচের ভান্ডার থেকে আমাকে দান করেছেন। অতএব তোমরা এগুলো শিক্ষা কর এবং নিজেদের মহিলাদেরকে ও সন্তানদেরকে শিক্ষা দাও। কেননা এ দু’টি একাধারে নামায কুরআন এবং দোয়া। ---হাকীম

হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে সূরা বাকারার একটি আয়াত রয়েছে, যা কুরআনের আয়াতকুলের শিরোমনি। এ আয়াতটি কোন ঘরে পাঠ করা হলে ঐ ঘরে শয়তান থাকলে বেরিয়ে যায়, আয়াতটি হল আয়াতুল কুরসী।

পোষ্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন। পরবর্তী পোষ্টের জন্য আমাদের সাথে থাকুন। আলাহ হাফেয।

Post a Comment

0 Comments