নামাজ সম্পর্কিত ১০টি হাদীস জেনে নিই
১। হযরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, ইসলামের প্রাসাদ ৫টি জিনিসের উপর নির্মিত। (১) আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই এবং মোহাম্মদ (সা.) তাঁহার রাসূল এই সাক্ষ্য দেওয়া। (২) নামাজ কায়েম করা। (৩) জাকাত দেওয়া। (৪) হজ্ব পালন করা। (৫) রমজান মাসে রোজা রাখা।
--------বোখারী
২। হয়রত যোবায়ের ইবনে নোফায়ের (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল(সা.) বলিয়াছেন, আমাকের অর্থ সম্পদ সঞ্চয় করিবার এবং ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয় নাই; বরং আমাকে বলা হইয়াছে, আপনি আপনার প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ ও প্রশংসা করিতে থাকুন, যাহারা সেজদা করে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন। মৃত্যুকাল পর্যন্ত আপনি আপনার প্রতিপালকের এবাদত করিতে থাকুন।
------শরহে সুন্নাহ, মেশকাত
৩। হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন রাসূল (সা.) তাঁহার শেষ অসিয়তে বলিয়াছেন সালাত সালাত। যাহারা তোমাদের অধীনস্থ তাহাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করিবে।
----আবু দাউদ
৪। হযরত আবু কাতাদা রেবঈ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, আল্লাহ বলেন, তোমার (উম্মতের) জন্য আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ কারিয়াছি। যে কেহ এই ৫ ওয়াক্ত নামায যথাযথভাবে আদায় করিয়া আমার নিকট আসিবে, আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছি যে, তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইব। যে ব্যক্তি এই ৫ ওয়াক্ত নামাজের পাবন্দি করে নাই, তাহার ব্যাপারে আমার কোন দায়িত্ব নাই।
---- আবু দাউদ
৫। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমআর নামাজ বিগত জুমআ পর্যন্ত রমজানের রোজা বিগত রমজানের রোজা পর্যন্ত কাফফারা হইবে মধ্যবর্তী সকল পাপের জন্য। শর্ত হইতেছে, যিনি আমল করিবেন তিনি কবিরা গুনাহ হইতে নিজেকে রক্ষা করিয়া চলিবেন।
----- মসলিম
৬। হযরত আবু উসামা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, কোন সময়ে দোয়া অধিক কবুল হয়? তিনি বলিলেন, রাতের শেষে এবং ফরজ নামাজের পরে।
---তিরমিজি
৭। হয়রত আবু মুসা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, কেহ যদি দুই শীতল সময়ের নামাজ আদায় করে তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।
ফায়দা: ঠান্ডা বা শীতল সময় বলিতে ফজর এবং আছরের নামাজের কথা বুঝানো হইয়াছে। ফজর শীতল সময়ের শেষের দিকে আর আছর শীতল সময়ের প্রথম দিকে আদায় করা হয়। এই দুই সময়ের নামাজের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে। কারন ফজরের সময় ঘুমের প্রকোপ বেশী থাকে আর আছরের সময় থাকে কাজকর্মের ব্যস্থতা। তাই এই দুই সময়ের নামাজ আদায় কষ্টকর হইয়া পড়ে। এই দুই ওয়াক্তের নামাজ যে ব্যক্তি যথানিয়মে আদায় করিবে সে অন্য সময়ের নামাজ সহজেই আদায় করিতে সক্ষম হইবে।
--------বোখারী
৮। হযরত রুয়াইবা (রা.) বলেন, সেই ব্যক্তি দোজখে প্রবেশ করিবে না যেই ব্যক্তি সূর্য উদয়ের আগের এবং সূর্যাস্ত হওয়ার আগের নামাজ সঠিকভাবে আদায় করে। অর্থাৎ ফজর এবং আছরের নামাজ।
----- মুসলিম
৯। হয়রত আবু জর (রা.) বলেন, যেই ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায়ের পর বিছানায় বসিয়া থাকে এবং নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করে, তাহার আমলনামায় ১০টি নেকী লেখা হইবে এবং ১০টি পাপ মুছিয়া দেওয়া হইবে। দোয়াটি এই – ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু ইউহ্ঈ অইউমিতু অহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বাদির”। সেই ব্যাক্তির ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হইবে। সারা দিন সেই ব্যক্তি অপছন্দীয় অশোভনীয় কাজ হইতে দুরে থাকিবে। শয়তানের প্ররোচনা হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই কালেমা প্রহরীর কাজ করিবে। একমাত্র শেরক ব্যতীত অন্য কোন পাপ এই আমলকারীকে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করিতে পারিবে না।
---তিরমিজি
অপর এক বর্ণনায় ইউহঈ অইউমিতু শব্দের পরিবর্তে বেইয়াদিকাল খাইর শব্দ উল্লেখ রহিয়াছে। আছরের নামাজের পরও যদি উক্ত দোয়া পাঠ করা হয় তবে রাত্রিকালে সেই ব্যক্তি একই রকম সাওয়াব লাভ করিবে। উক্ত ২টি শব্দের পরিবর্তনের পর দেয়াটির অর্থ নিম্নরূপ- মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নাই। সকল রাজত্ব ও পরাক্রম তাঁহারই জন্য, সকল প্রশংসা তাঁহারই জন্য। তাঁহার হাতেই নিহিত রহিয়াছে সকল কল্যাণ। জীবন ও মৃত্যু তাঁহারই দান। তিনি সব কিছু সম্পন্ন করিবার ক্ষমতা রাখেন।
---- তিরমিজি
১০। হযরত জুন্দুব কাছরী (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, যেই ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করিয়াছে সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহর জিম্মায় অর্পিত হইয়াছে। কাজেই সেই ব্যক্তিকে তোমরা এমন কোন কষ্ট দিয়ো না যাহাতে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের নিকট কোন কিছু দাবী করেন। তবে যাহার নিকট দাবী করিবেন তাহাকে উল্টোমুখে দোজখে নিক্ষেপ করিবেন।
--- মসলিম
চলবে---------

0 Comments