সালামের সূচনা ও ফজীলত

সালামের সূচনা ও ফজীলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের আলোকে জেনে নিই


সালাম সূচনা ও ফজীলত,prowazon




হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়লা আদম (আ.) কে তাঁর (আদম (আ.) এর নিজের গঠন-আকৃতিতেই সৃষ্টি করেছেন। তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করে বললেন, যাও ফেরেশতাদের অবস্থানরত দলকে সালাম কর এবং তারা তোমার সালামের কি জবাব দেয় মনোযোগ দিয়ে শুন, এটাই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালাম; সুতরাং আদম (আ.) গিয়ে বললেন, আসসালামু আলাইকুম (অর্থাৎ আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) ফেরেশতারা জবাব দিলেন, আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ (অর্থাৎ আপনার উপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। ফেরেশতারা জবাব দিলেন, “ওয়া রাহমাতুল্লাহ” অংশ বৃদ্ধি করলেন। অতঃপর যারা জান্নাতে যাবে তারা প্রত্যেকেই আদম (আ.) এর আকৃতিবিশিষ্ট হবে। তখন হতে এখন পর্যন্ত মানুষের উচ্চতা ক্রমাগত হ্রাস পেয়েই আসছে। ---বোখারী


মহান আল্লাহর বাণী

”হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ছাড়া অপরের গৃহে গৃহবাসীর অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। যদি তোমরা তাতে কাউকে না পাও তবে তাতে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত তোমাকে অনুমতি দেয়া না হবে। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ফিরে যাও, তাহলে ফিরে যাবে। এটা তোমাদের জন্য উত্তম। তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞাত। যেসব গৃহে কেউ বাস করে না সেসব গৃহে তোমাদের জিনস-পত্র থাকলে তাতে প্রবেশ করলে তোমাদের কোন গুনাহ হবে না। আর যা তোমরা প্রকাশ কর এবং যা গোপন কর আল্লাহ তা সবই জানেন”। -------সূরা আন-নূর: ২৭-২৯ আয়াত।


মহান আল্লাহর বাণী

“এবং যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় তখন তোমরা তদপেক্ষাও উত্তম অভিবাদনের মাধ্যমে তার জবাব দাও অথবা তার তদুরূপ জবাব দান কর” ----সূরা নিসা: ৮৬।


হয়রত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম (সা.) এর সাথে নামায পড়তাম তখন বলতাম, আসসালামু আলাল্লাহি ক্বাবলা ইবাদিহী (অর্থাৎ বান্দাদের আগে আল্লাহর উপর সালাম) আসসালামু আলা জিবরাঈলা, আসসালামু আলা মিকাইলা, আসসালামু আলা ফুলানিন (অর্থাৎ জিবরাঈল এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক, মিকাইল এর উপর শান্তি বার্ষিত হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। নবী করীম (সা.) নামায শেষে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, আল্লাহ নিজেই হলেন সালাম, যখন তোমাদের কেউ নামাযে বসে তখন যেন বলে, “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াছ্ ছলাওয়াতু ওয়াত্তায়্যিবাতু আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয় বারাকাতুহ আসসালামু আলাইনা ওয়া’আলা’ ইবাদিল্লহিছ্ ছোয়ালেহীন।” সে যখন এট বলবে তখন সাথে সাথে আসমান-যমীনে যত ছালেহ ও সত্যনিষ্ট বান্দা আছে সকলের নিকট সালাম পৌঁছে যাবে। অতঃপর “আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু” (বলে) যা ইচ্ছা দোয়া করবে।----বোখারী


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত কোন ব্যক্তি নবী করীম (সা.) এর নিকট জিজ্ঞেস করল, কিরূপ ইসলাম উত্তম? তিনি বললেন, (ইসলামের উত্তম কাজ হল অন্যকে) খানা খাওয়াবে এবং তোমার পরিচিত এ পরিচিত প্রত্যেককে সালাম দেবে।-----বোখারী


আবু আইউব (রা.) হতে বর্ণিত। নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোন মুসলমানের জন্য হালাল নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে পরপর তিনদিন এমনভাবে দেখা সাক্ষাত বন্ধ রাখে যে, যখন দুজনে দেখা হয়, তখন একজন একদিকে এবং অন্যজন আরেক দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকে। এদের মধ্যে যে প্রথম সালামের সূচনা করে, সে-ই উত্তম।---বোখারী


হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলিয়াছেন, তোমরা মোমেন না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারিবে না। তোমরা ততদিন পর্যন্ত মোমেন হইতে পারিবে না যতদিন একে অন্যকে ভালো না ভাস। আমি কি তোমাদেরকে পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসার বিষয়টি বলিয়া দিব? পরস্পরের মধ্যে তোমরা সালামের প্রচলন কর।---মসলিম


হযরত এমরান ইবনে হোসাইন (রা.) হইতে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর নিকট উপস্থিত হইয়া তাঁহাকে বলিলেন, আসসালমু আলাইকুম। রাসূল্লাহ (সা.)  সালামের জবাব দিলেন। আগন্তুক মজলিসে বসিয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলিলেন দশ। অর্থাৎ সালামের কারনে লোকটি আমলনামায় ১০টি নেকী লেখা হইয়াছে। তারপর অন্য এক লোক আসিলেন এবং তিনি আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহার সালামের জবাব দিলেন। তারপর সেই ব্যক্তি বসিয়া পড়িলেন। রাসূল (সা.) বলিলেন বিশ। অর্থাৎ সালামের কারনে তাহার আমলনামায় ২০টি নেকী লেখা হইয়াছে। তারপর তৃতীয় এক ব্যক্তি আসিলেন এবং তিনি বলিলেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে অবারাকাতুহু। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহার সালামের জবাব দিলেন। সেই ব্যক্তি মজলিসে বসিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলিলেন ত্রিশ। অর্থাৎ তাহার সালামের জবাবে ত্রিশটি নেকী লেখা হইয়াছে। 

---- আবু দাউদ


হযরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলিয়াছেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী হওয়ার উপযুক্ত সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি প্রথমে সালাম করে।---আবু দাউদ


হযরত আবুল্লাহ (রা.) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, যেই ব্যক্তি আগে সালাম জানায় সে অহংকার হইতে মুক্ত থাকে। ---- বায়হাকী


হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলিয়াছেন হে বৎস! তুমি যখন ঘরে প্রবেশ করিবে তখন ঘরের লোকদেরকে সালাম করিবে। তোমার জন্য এবং তোমার ঘরের লোকদের জন্য ইহা বরকতের কারন হইবে।----তিরমিজি


হযরত আব হোরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, তোমাদের মধ্যে হইতে কেহ যখন কোন মজলিসে যায় তখন যেন সালাম করে। তারপর বসিতে চাহিলে বসিবে। মজলিস হইতে উঠিয়া যাইতে চাইলে যেন পুনরায় সালাম করে। কেননা প্রথম সালাম দ্বিতীয় সালাম হইতে উত্তম নহে। সাক্ষাতের সময় সালাম করা যেমন সুন্নত তেমনি বিধায়ের সময়ে সালাম করাও সুন্নত।----তিরমিজি


হয়রত আব হোরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, ছোটরা বড়দের সালাম করিবে। পথচারী বসা ব্যক্তিকে সালাম করিবে। কম সংখ্যক লোক বেশী সংখ্যক লোককে সালাম করিবে।            ---- বোখারী


হয়রত মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) রাতে যখন ঘরে ফিরিতেন তখন এমনভাবে সালাম করিতেন যেন ঘুমের লোকেরা জাগিয়া না যায় আর জাগিয়া থাকা লোকেরা শুনিতে পায়।              ---তিরমিজি


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করিয়াছেন রাসূল (সা.) বলেন, সালামের পরিপূর্ণতা হইতেছে করমর্দন।---তিরমিজি


হযরত বারা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলিয়াছেন, দুই জন মুসলমান পরস্পর সাক্ষাতের পর করমর্দন করিলে তাহাদের পৃথক হওয়ার আগেই তাহাদের পাপ ক্ষমা করিয়া দেওয়া হয়। ----আবু দাউদ


হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুলাহ (সা.) কে আমি এক কথা বলিতে শুনিয়াছি, একজন মুসলমানের অন্য মুসলমানের উপর ৫টি হক রহিয়াছে। (১) সালামের জবাব দেওয়া। (২) অসুস্থ হইলে দেখিতে যাওয়া। (৩) জানাযার সহিত গমন করা। (৪) দাওয়াত করিলে সেই দাওয়াত গ্রহন করা। (৫) হাচি দিলে তাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।--- বোখারী



Post a Comment

0 Comments