হযরত ওমর (রা.) এর খলিফাত কালের শিক্ষানীয় ঘটনা

Khalifa-Umar-R/prowazon

 

সাঈদ বিন আমের (রা.) ও হিমসবাসী

হিমসের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হযরত ওমর (রা.) একদিন সিরিয়া যাওয়ার পথে হেমস শহরে যাত্রাবিরতি করেন। এ শহরকে ‘কুহাইফা’ বা ছোট কুফা নামেও ডাকা হতো। এটি কুফা শব্দের তাসগীর এবং হিমসের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কেননা এ শহরের অধিবাসীরা তাদের গভর্নর ও সরকারী কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অধিক অভিযোগ করত যেমনিভাবে কুফাবাসীরা করত।

হযরত ওমর (রা.) শহরে পা রাখার পর শহরের অধিবাসীরা তাঁকে সালাম ও স্বাগতম জানাতে ছুটে আসল।

তিনি তাদেরকে বললেন, তোমাদের গভর্নর কেমন?

তারা হযরত সাঈদের ব্যাপারে তাঁর কাছে চারটি অভিযোগ করে। এগুলো একটি অন্যটির চেয়েও মারাত্মক ছিল।

হযরত ওমর (রা.) বলেন-

এরপর আমি সাঈদকে ও শহরের অধিবাসীদেরকে একত্রিত করলাম। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম আল্লাহ যেন সাঈদের ব্যাপারে আমার সু-ধারণাকে নষ্ট না করে দেয়। কেননা তাঁর ব্যাপারে আমি অনেক ভালো ধারণা করতাম। যখন তাদের গভর্নর ও তারা আমার কাছে একত্রিত হলো তখন আমি তাদেরকে বললাম, তোমাদের গভর্নরের ব্যাপারে তোমাদের কী কী অভিযোগ?

তারা বলল, সূর্য পূর্বাকাশ ছেড়ে উপরে না উঠা পর্যন্ত তিনি আমাদের নিকটে আসেন না। অর্থাৎ প্রত্যহ দেরি করে দরবারে উপস্থিত হন।

আমি বললাম, হে সাঈদ! এ অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি?

হযরত সাঈদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা বলতে অপছন্দ করি, কিন্তু আমি এখন বলতে বাধ্য, তা হচ্ছে আমার কোনো খাদেম নেই আর এ কারণেই আমি সকালে আমার পরিবারের জন্যে গম পিসে ময়দা বানিয়ে দিই। তারপর তি সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর তা দ্বারা আমার পরিবারের জন্য রুটি বানাই। রুটি বানানো শেষ করে আমি অযু করি এবং মানুষের নিকটে বের হয়ে আসি।

হযরত ওমর (রা.) বললেন, তারপর আমি তাদেরকে বললাম: তার ব্যাপারে তোমাদের আর কী অভিযোগ আছে?

তারা বলল, তিনি রাতে কারো ডাকে সাড়া দেন না।

অমি বললাম, হে সাঈদ! এ অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি?

হযরত সাঈদ বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি এ বিষয়টি প্রকাশ করা অপছন্দ করছি.......  আর তা হচ্ছে আমি দিনকে জনকল্যাণকর কাজের জন্যে নির্ধারণ করেছি আর রাতকে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্যে নির্ধারণ করেছি।

আমি বললাম, তার ব্যাপারে তোমাদের আর কী অভিযোগ আছে?

তারা বলল, তিনি মাসে একদিন আমাদের নিকটে আসেন না।

আমি বললাম, হে সাঈদ! এ অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি?

হযরত সাঈদ বললেন, আমার কোনো খাদেম নেই আর আমার পরিহিত এ জামা ব্যতীত আর কোনো জামাও নেই। এ কারনে আমি মাসে একবার জামাটি ধৌত করি। এরপর জামাটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করি। দিনের শেষে জামাটি শুকানোর পর আমি তাদের কাছে আসি।

আমি বললাম, তার ব্যাপারে তোমাদের আর কী অভিযোগ আছে?

তারা বলল, অনেক সময় তিনি সভায় থেকেও অন্যমনস্ক হয়ে যান।

আমি বললাম, হে সাঈদ! তুমি এমন কর কেন?

হযরত সাঈদ (রা.) বললেন, আমি খুবাইব বিন আদীকে হতা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি মুশরিক ছিলাম। আমি কোরাইশদেরকে তার শীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করতে দেখেছি। তখন তারা তাকে বলল, তোমার পরিবর্তে মুহাম্মদকে হত্যা করা হবে আর তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে, তুমি কি তা পছন্দ কর।

হযরত খুবাইব কি তা পছন্দ কর।

হযরত খুবাইব তখন বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি নিরাপদে আমার পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাব আর মুহাম্মদ (রা.) কে একটি কাঁটার আঘাত সইতে হবে তাও আমি পছন্দ করি না।

আল্লাহর শপথ! যখনি আমার এ ঘটনা মনে পড়ে আমি কেন তাঁকে সাহায্য করলাম না তখনি আমার মনে হয় আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ চিন্তা আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলে।

হযরত সাঈদ বিন আমের (রা.) থেকে অভিাযোগের এ জবাবগুলো শুনে হযরত ওমর (রা.) বললেন, সকল প্রশংসা সে আল্লাহ তায়ালার যিনি সাঈদের ব্যাপারে আমার ধারণাকে সঠিক করেছেন।



Post a Comment

1 Comments